পিসি রায়ের বাড়ি ঘিরে রয়েছে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি

রুদমিলা আক্তার

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাডুলী গ্রামের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। উপমহাদেশের প্রখ্যাত রসায়ন বিজ্ঞানী স্যার পিসি রায়ের পৈত্রিক বাড়িতে একসময় ব্রিটিশবিরোধী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হত।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে যখন গোটা ভারতবর্ষ উত্তাল, তখন আইন অমান্য আন্দোলন, লবণ আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, এ কে ফজলুল হক, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, মাওলানা মোহাম্মদ আলীসহ তৎকালীন প্রখ্যাত নেতারা।

স্বাধীনতা আন্দোলনের নানা পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় খুলনার রাডুলী গ্রামে অবস্থিত স্যার পিসি রায়ের পৈত্রিক বাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়ি আজও বহন করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস।

বর্তমানে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি কেবল স্যার পিসি রায়ের স্মৃতিই নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে (রনজিত কুমার মন্ডল রচিত আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়)।

আধুনিক পরিচর্যার মেলবন্ধনে নতুন রূপে : উপমহাদেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পোদ্যোক্তা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের পৈতৃক বাড়িটিকে দিয়েছে নতুন প্রাণ।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বাড়িটির প্রতিটি অংশ সংরক্ষণের পাশাপাশি মূল স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ভবনের দেয়াল, বারান্দা, প্রবেশ পথসহ চারপাশের পরিবেশ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা এক নজরেই এর ঐতিহ্য ও সৌন্দরে‌্যর স্বাক্ষর খুঁজে পান।

প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর, খুলনা সংস্কার-সংরক্ষণ কাজের মাধ্যমে বাড়িটির পূর্বের আদল ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সদর মহলের উত্তর-পশ্চিম পাসে মহিলাদের বসবাসের জন্য একটি সুরম্য অট্টালিকা নির্মান করা হয় যা অন্দরমহল নামে পরিচিত। এই অন্দরমহলেই আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৮৬১ সনে ২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। সংস্কারের পর ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ (প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, খুলনার প্রকাশনা বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের বসতবাড়ি)। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিহাসপ্রেমী, শিক্ষার্থী, গবেষক ও পর্যটকেরা বাড়িটি দেখতে আসছেন। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি বাড়ি নয়; বরং বাঙালির গৌরবময় ইতিহাস, বিজ্ঞানচর্চা এবং নবজাগরণের এক অমূল্য স্মারক।

জনশ্রুতি অনুযায়ী ১৮৫০ সালে আচর্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের পিতা হরিশচন্দ্র রায় রাডুলী গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বসতবাড়িটি নির্মান করেন। বর্তমানে এ বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে (বাংলাদেশ গেজেট, ৭ নভেম্বর ১৯৯৬)। ১৮৯৬ সালে মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিস্কারের মাধ্যমে ভারতীয় রসায়ন গবেষনায় স্যার পিসি রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন